গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কর্মসংস্থান সরবরাহে ইতিহাস গড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শ্রমবাজার। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, অঞ্চলটিতে কর্মসংস্থানের হার পৌঁছেছে রেকর্ড সর্বোচ্চে। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ২০০০ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে বেকারত্বের হার। খবর ইউরো নিউজ।
১৫-৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে চাকরির হার অনুসারে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে ইইউর গড় কর্মসংস্থান দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।
ওইসিডি ২০০৫ সাল থেকে কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। এবারের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, এ পরিপ্রেক্ষিতে আটটি সদস্য দেশ নিজ নিজ ইতিহাসে সর্বোচ্চ কর্মসংস্থানের রেকর্ড গড়েছে। আর ২৪ ইইউভুক্ত দেশের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার সর্বনিম্ন ছিল ইতালিতে ৬২ দশমিক ২ এবং সর্বোচ্চ নেদারল্যান্ডসে ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ।
এদিকে ইইউতে প্রার্থিতা প্রত্যাশী দেশ, ইউরোপিয়া ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফটিএ) সদস্য ও যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করলে ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ কর্মসংস্থান নিয়ে তালিকায় আইসল্যান্ডের অবস্থান সর্বোচ্চ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন অবস্থান তুরস্কের, ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ।
কর্মসংস্থানে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির মধ্যে এগিয়ে রয়েছে জার্মানি (৭৭ দশমিক ৬), এর পরে যুক্তরাজ্য (৭৫ শতাংশ)। অবশ্য ফ্রান্স ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ কর্মসংস্থান নিয়ে ইইউ এবং ওইসিডি গড়ের নিচে অবস্থান করছে। তালিকায় সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে গ্রিস ও তুরস্কের সঙ্গে ছিল স্পেন (৬৬ দশমিক ৩) ও ইতালি (৬২ দশমিক ২ শতাংশ)।
গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ইইউ সদস্য ও সদস্য প্রত্যাশী মোট আটটি দেশ কর্মসংস্থানে রেকর্ড গড়েছে। দেশগুলো হলো জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, বেলজিয়াম, স্পেন, গ্রিস ও তুরস্ক। কয়েকটি দেশের অগ্রগতি সামান্য হলেও তা সামগ্রিক বিচারে ইউরোপীয় শ্রমবাজারের শক্তিশালী উত্থানের ইঙ্গিত দেয়।
এ পরিসংখ্যানে (সাইপ্রাস, মাল্টা ও রোমানিয়া বাদে) নেদারল্যান্ডস ইইউর একমাত্র দেশ, যার কর্মসংস্থানের হার ২০০৫ সালের পর প্রথমবার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ইউরোস্ট্যাট ২০-৬৪ বছর বয়সীদের অন্তর্ভুক্ত করা পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে আরো কিছু দেশ এ সীমা অতিক্রম করত। আইসল্যান্ড (১ দশমিক ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি) ও গ্রিস (১ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি) কর্মসংস্থানে সবচেয়ে বেশি বার্ষিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ওইসিডি জানায়, এ অগ্রগতির মূল কারণ শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির তথ্যানুযায়ী, ইইউতে বেকারত্ব নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ২০০০ সালের পর সর্বনিম্ন। ২৪টি সদস্য দেশের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন ছিল পোল্যান্ডে (২ দশমিক ৬) এবং সর্বোচ্চ স্পেনে (১০ দশমিক ৪ শতাংশ)। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্পেনের পর সবচেয়ে বেশি বেকারত্ব ফিনল্যান্ডে (৯ দশমিক ২) ও সুইডেনে (৮ দশমিক ৯ শতাংশ)। এ তালিকায় চতুর্থ সর্বনিম্ন বেকারত্ব নিয়ে শীর্ষ পাঁচ ইউরোপীয় অর্থনীতির মধ্যে সেরা অবস্থানে আছে জার্মানি (৩ দশমিক ৫ শতাংশ)। ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেকারত্ব নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এদিকে ইইউর গড়ের চেয়ে বেশি বেকারত্ব ধরা পড়েছে ইউরোপের তিনটি বড় অর্থনীতি স্পেন, ফ্রান্স (৭ দশমিক ৪) ও ইতালিতে (৫ দশমিক ৯ শতাংশ)।
কর্মসংস্থানের এ পরিসংখ্যান ইউরোপীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের। এতে সহায়তা দিয়েছে কভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কর্মসূচি, শক্তিশালী শিল্পনীতি ও প্রযুক্তি খাতের পুনরুত্থান। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনসংখ্যার উচ্চ হারে অংশগ্রহণ শ্রমবাজারে গতিশীলতা এনেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কর্মসংস্থান বাজারে জমজমাট এ সময় ইইউর নীতিনির্ধারকদের জন্য বেশ মূল্যবান। কারণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দক্ষতাভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ এবং সামাজিক সুরক্ষার পরিসর বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।